রান্নায় উপকরণ নষ্ট? এই কৌশলগুলো না জানলে বিরাট লস!

webmaster

Perfect Ingredient Prep**

A well-organized kitchen scene. A woman in a modest apron is chopping vegetables at a clean counter. Jars of spices are neatly labeled. Measuring cups and spoons are readily available. Bright, natural lighting. Focus on the importance of preparation. Safe for work, appropriate content, fully clothed, professional, perfect anatomy, correct proportions, well-formed hands, proper finger count, natural pose.

**

রান্নাঘরে নতুন কিছু তৈরি করতে গিয়ে মাঝে মাঝে এমন কিছু ভুল হয়ে যায়, যা খাবারের স্বাদটাই মাটি করে দেয়। হয়তো লবণ বেশি দিয়ে ফেললেন, কিংবা মশলার পরিমাণটা ঠিক হলো না। আবার অনেক সময় দেখা যায়, সব উপকরণ ঠিকঠাক দিলেও রান্নার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে খাবারটা ঠিক জমলো না। সত্যি বলতে, রান্নার এই ছোটখাটো ভুলগুলো কিন্তু আমাদের অনেক মূল্যবান শিক্ষাও দিয়ে থাকে। প্রথমবার বিরিয়ানি বানাতে গিয়ে আমার নিজেরই চাল নরম হয়ে গিয়েছিল!

তবে চিন্তা নেই, এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও ভালো রাঁধুনি হয়ে উঠতে পারি।আসুন, রান্নার এই ভুলগুলো এড়ানোর কিছু কৌশল আমরা নিচের লেখায় জেনে নেই।

রান্নাঘরের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার কয়েকটি দারুণ উপায়

উপকরণ সামলানো: রান্নার আগের প্রস্তুতি

উপকরণ - 이미지 1

রান্নার আগে সব উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে রাখাটা খুবই জরুরি। ধরুন, আপনি বিরিয়ানি রান্না করছেন, আর তখনই মনে পড়লো পেঁয়াজ বের করতে ভুলে গেছেন। এই তাড়াহুড়োতে রান্নার স্বাদ বিগড়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকে সব কিছু মেপে নিন, কেটে নিন। এতে আপনার সময় বাঁচবে, আর রান্নাটাও হবে পারফেক্ট। আমি যখন প্রথমবার পায়েস বানাতে গিয়ে দুধ জ্বাল দেওয়ার সময় অন্য কাজে মন দিয়েছিলাম, তখন পুড়ে গিয়েছিলো!




তাই উপকরণ গোছানোর পাশাপাশি রান্নার সময় মনোযোগ দেওয়াটাও খুব দরকার।

উপকরণ মাপার সঠিক নিয়ম

অনেকেই আন্দাজে উপকরণ দেন, কিন্তু সবসময় সেটা ঠিক হয় না। বিশেষ করে যখন আপনি কেক বা বিস্কুট বানাচ্ছেন, তখন মাপটা খুব জরুরি। Cup, চামচ বা measuring scale ব্যবহার করে সঠিক পরিমাণে উপকরণ দিন।

টাটকা উপকরণ চেনার উপায়

সবজির রং উজ্জ্বল থাকবে, ফলগুলো হবে ফ্রেশ আর মাছের চোখগুলো দেখলে মনে হবে যেনো জীবন্ত। মশলার গন্ধটা হতে হবে তীব্র।

মশলার ব্যবহার: সঠিক পরিমাণে স্বাদ

মশলাপাতি রান্নার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এর সঠিক ব্যবহার খাবারের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে ভুল মশলা বা অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করলে পুরো রান্নাটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। আমি একবার মাছের ঝোল বানানোর সময় ভুল করে একটু বেশি হলুদ দিয়ে ফেলেছিলাম, যার কারণে তরকারিটা তেতো হয়ে গিয়েছিল। তাই মশলার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে।

কোন খাবারে কোন মশলা

বিভিন্ন রান্নায় বিভিন্ন মশলার ব্যবহার হয়। যেমন, মাংসের জন্য গরম মশলা, জিরা, ধনিয়া ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, আবার সবজির জন্য পাঁচফোড়ন বা রাঁধুনি ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে।

মশলার সঠিক পরিমাণ

মশলার পরিমাণ সব সময় ঠিক রাখা উচিত। খুব বেশি বা খুব কম মশলা ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। পরিমাণ মতো মশলা ব্যবহার করে খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারেন।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: আঁচের খেলা

উনানের আঁচের ওপর রান্নার স্বাদ অনেকখানি নির্ভর করে। অনেক সময় দেখা যায়, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আমরা বেশি আঁচে রান্না বসিয়ে দিই, যার ফলে খাবার পুড়ে যায় বা নিচে লেগে যায়। আবার কম আঁচে রান্না করলে খাবার সেদ্ধ হতে অনেক সময় লাগে। তাই কোন খাবারটি কেমন আঁচে রান্না করতে হবে, সে বিষয়ে একটু ধারণা থাকা দরকার।

বিভিন্ন রান্নায় তাপের ব্যবহার

কিছু রান্না আছে যেগুলো বেশি আঁচে করতে হয়, যেমন ভাজাভুজি। আবার কিছু রান্না আছে যেগুলো কম আঁচে ধীরে ধীরে করতে হয়, যেমন মাংস কষানো।

আঁচ সামলানোর কৌশল

আঁচ সামলানোর জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যায়। রান্নার সময় আঁচের দিকে খেয়াল রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা কমানো-বাড়ানো করুন।

নুন-চিনি: স্বাদের ভারসাম্য

নুন আর চিনি—এই দুটো জিনিস খাবারের স্বাদকে একেবারে বদলে দিতে পারে। নুনের অভাবে যেমন খাবার পানসে লাগে, তেমনি বেশি হয়ে গেলে খাবার খাওয়া যায় না। মিষ্টি খাবারে চিনির পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে তা তেতো লাগতে শুরু করে। তাই নুন আর চিনির ব্যবহারে একটু সতর্ক থাকতে হয়।

লবণ বেশি হলে কী করবেন

যদি দেখেন তরকারিতে লবণ বেশি হয়ে গেছে, তাহলে কয়েকটি আলু কেটে দিয়ে দিন। আলু অতিরিক্ত লবণ শুষে নেবে। এছাড়া একটু আটা বা ময়দা গুলে দিলেও লবণাক্ত ভাব কমে যায়।

চিনি কম বা বেশি হলে কী করবেন

চিনি কম হলে অল্প চিনি মিশিয়ে দিন, তবে বেশি হয়ে গেলে একটু লেবুর রস দিন। এতে মিষ্টির ভারসাম্য ফিরে আসবে।

উপকরণ মেলানো: কোনটির সঙ্গে কোনটি

সব উপকরণ একসঙ্গে মেশানোর আগে একটু চিন্তা করে দেখুন তো, সেগুলো একে অপরের সঙ্গে মানানসই কিনা? অনেক সময় আমরা এমন কিছু জিনিস মিশিয়ে ফেলি, যা খাবারের স্বাদটাকে পুরো বদলে দেয়। যেমন, তেঁতুল দিয়ে পায়েস বানালে সেটা যেমন অদ্ভুত হবে, তেমনই ডালের মধ্যে বেশি টক দিলে স্বাদটা খারাপ হয়ে যাবে।

উপকরণের সঠিক মিশ্রণ

কিছু উপকরণ আছে যেগুলো একে অপরের পরিপূরক। যেমন, পেঁয়াজ, রসুন এবং আদা—এই তিনটি জিনিস প্রায় সব রান্নাতেই ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।

যা মেশানো উচিত নয়

টক জাতীয় খাবারের সঙ্গে দুধ বা দই মেশানো উচিত নয়। এতে খাবার ফেটে যেতে পারে এবং স্বাদও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ভুল সমাধান
লবণ বেশি আলু দিন
ঝাল বেশি দই দিন
মিষ্টি বেশি লেবুর রস

রান্নার পাত্র: সঠিক পাত্র নির্বাচন

রান্নার জন্য সঠিক পাত্র নির্বাচন করাটা খুব জরুরি। কোন পাত্রে রান্না করছেন, তার ওপর খাবারের স্বাদ এবং গুণাগুণ অনেকখানি নির্ভর করে। যেমন, ননস্টিক পাত্রে রান্না করলে খাবার লেগে যাওয়ার ভয় থাকে না, আবার মাটির পাত্রে রান্না করলে খাবারের স্বাদ বেড়ে যায়।

বিভিন্ন পাত্রের ব্যবহার

* ননস্টিক: ডিম ভাজা বা কম তেলে রান্নার জন্য ভালো।
* মাটির পাত্র: মাংস বা ডাল রান্নার জন্য সেরা।
* লোহার কড়াই: ভাজাভুজি বা সবজি রান্নার জন্য উপযুক্ত।

সঠিক পাত্র চেনার উপায়

ভালো পাত্র চেনার জন্য তার উপাদান এবং পুরুত্ব দেখতে হয়। পাতলা পাত্রে রান্না করলে খাবার পুড়ে যেতে পারে।

শেষ মুহূর্তের টিপস: পরিবেশন ও সাজসজ্জা

রান্না তো হল, এবার পরিবেশনের পালা। সুন্দর করে খাবার সাজিয়ে পরিবেশন করলে মনটা ভরে যায়। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য শেষ মুহূর্তে কিছু জিনিস যোগ করা যায়, যেমন ধনে পাতা বা একটু বাটার।

সাজানোর কিছু টিপস

* ধনে পাতা, পুদিনা পাতা দিয়ে সাজান।
* একটু চাট মশলা ছড়িয়ে দিন।
* লেবুর টুকরা দিয়ে পরিবেশন করুন।

পরিবেশনের সঠিক নিয়ম

গরম খাবার গরম এবং ঠান্ডা খাবার ঠান্ডা পরিবেশন করুন। এতে খাবারের স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে।এই টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন পারফেক্ট রাঁধুনি। রান্নার ভুলগুলো নিয়ে চিন্তা না করে, সেগুলো থেকে শিখুন এবং নতুন কিছু তৈরি করতে থাকুন। শুভ কামনা!

রান্নার ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার কয়েকটি দারুণ উপায়

উপকরণ সামলানো: রান্নার আগের প্রস্তুতি

রান্নার আগে সব উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে রাখাটা খুবই জরুরি। ধরুন, আপনি বিরিয়ানি রান্না করছেন, আর তখনই মনে পড়লো পেঁয়াজ বের করতে ভুলে গেছেন। এই তাড়াহুড়োতে রান্নার স্বাদ বিগড়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকে সব কিছু মেপে নিন, কেটে নিন। এতে আপনার সময় বাঁচবে, আর রান্নাটাও হবে পারফেক্ট। আমি যখন প্রথমবার পায়েস বানাতে গিয়ে দুধ জ্বাল দেওয়ার সময় অন্য কাজে মন দিয়েছিলাম, তখন পুড়ে গিয়েছিলো! তাই উপকরণ গোছানোর পাশাপাশি রান্নার সময় মনোযোগ দেওয়াটাও খুব দরকার।

উপকরণ মাপার সঠিক নিয়ম

অনেকেই আন্দাজে উপকরণ দেন, কিন্তু সবসময় সেটা ঠিক হয় না। বিশেষ করে যখন আপনি কেক বা বিস্কুট বানাচ্ছেন, তখন মাপটা খুব জরুরি। Cup, চামচ বা measuring scale ব্যবহার করে সঠিক পরিমাণে উপকরণ দিন।

টাটকা উপকরণ চেনার উপায়

উপকরণ - 이미지 2

সবজির রং উজ্জ্বল থাকবে, ফলগুলো হবে ফ্রেশ আর মাছের চোখগুলো দেখলে মনে হবে যেনো জীবন্ত। মশলার গন্ধটা হতে হবে তীব্র।

মশলার ব্যবহার: সঠিক পরিমাণে স্বাদ

মশলাপাতি রান্নার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এর সঠিক ব্যবহার খাবারের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে ভুল মশলা বা অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করলে পুরো রান্নাটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। আমি একবার মাছের ঝোল বানানোর সময় ভুল করে একটু বেশি হলুদ দিয়ে ফেলেছিলাম, যার কারণে তরকারিটা তেতো হয়ে গিয়েছিল। তাই মশলার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানতে হবে।

কোন খাবারে কোন মশলা

বিভিন্ন রান্নায় বিভিন্ন মশলার ব্যবহার হয়। যেমন, মাংসের জন্য গরম মশলা, জিরা, ধনিয়া ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, আবার সবজির জন্য পাঁচফোড়ন বা রাঁধুনি ব্যবহার করলে স্বাদ বাড়ে।

মশলার সঠিক পরিমাণ

মশলার পরিমাণ সব সময় ঠিক রাখা উচিত। খুব বেশি বা খুব কম মশলা ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। পরিমাণ মতো মশলা ব্যবহার করে খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারেন।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: আঁচের খেলা

উনানের আঁচের ওপর রান্নার স্বাদ অনেকখানি নির্ভর করে। অনেক সময় দেখা যায়, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আমরা বেশি আঁচে রান্না বসিয়ে দিই, যার ফলে খাবার পুড়ে যায় বা নিচে লেগে যায়। আবার কম আঁচে রান্না করলে খাবার সেদ্ধ হতে অনেক সময় লাগে। তাই কোন খাবারটি কেমন আঁচে রান্না করতে হবে, সে বিষয়ে একটু ধারণা থাকা দরকার।

বিভিন্ন রান্নায় তাপের ব্যবহার

কিছু রান্না আছে যেগুলো বেশি আঁচে করতে হয়, যেমন ভাজাভুজি। আবার কিছু রান্না আছে যেগুলো কম আঁচে ধীরে ধীরে করতে হয়, যেমন মাংস কষানো।

আঁচ সামলানোর কৌশল

আঁচ সামলানোর জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যায়। রান্নার সময় আঁচের দিকে খেয়াল রাখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা কমানো-বাড়ানো করুন।

নুন-চিনি: স্বাদের ভারসাম্য

নুন আর চিনি—এই দুটো জিনিস খাবারের স্বাদকে একেবারে বদলে দিতে পারে। নুনের অভাবে যেমন খাবার পানসে লাগে, তেমনি বেশি হয়ে গেলে খাবার খাওয়া যায় না। মিষ্টি খাবারে চিনির পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে তা তেতো লাগতে শুরু করে। তাই নুন আর চিনির ব্যবহারে একটু সতর্ক থাকতে হয়।

লবণ বেশি হলে কী করবেন

যদি দেখেন তরকারিতে লবণ বেশি হয়ে গেছে, তাহলে কয়েকটি আলু কেটে দিয়ে দিন। আলু অতিরিক্ত লবণ শুষে নেবে। এছাড়া একটু আটা বা ময়দা গুলে দিলেও লবণাক্ত ভাব কমে যায়।

চিনি কম বা বেশি হলে কী করবেন

চিনি কম হলে অল্প চিনি মিশিয়ে দিন, তবে বেশি হয়ে গেলে একটু লেবুর রস দিন। এতে মিষ্টির ভারসাম্য ফিরে আসবে।

উপকরণ মেলানো: কোনটির সঙ্গে কোনটি

সব উপকরণ একসঙ্গে মেশানোর আগে একটু চিন্তা করে দেখুন তো, সেগুলো একে অপরের সঙ্গে মানানসই কিনা? অনেক সময় আমরা এমন কিছু জিনিস মিশিয়ে ফেলি, যা খাবারের স্বাদটাকে পুরো বদলে দেয়। যেমন, তেঁতুল দিয়ে পায়েস বানালে সেটা যেমন অদ্ভুত হবে, তেমনই ডালের মধ্যে বেশি টক দিলে স্বাদটা খারাপ হয়ে যাবে।

উপকরণের সঠিক মিশ্রণ

কিছু উপকরণ আছে যেগুলো একে অপরের পরিপূরক। যেমন, পেঁয়াজ, রসুন এবং আদা—এই তিনটি জিনিস প্রায় সব রান্নাতেই ব্যবহার করা যায় এবং এগুলো খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।

যা মেশানো উচিত নয়

টক জাতীয় খাবারের সঙ্গে দুধ বা দই মেশানো উচিত নয়। এতে খাবার ফেটে যেতে পারে এবং স্বাদও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ভুল সমাধান
লবণ বেশি আলু দিন
ঝাল বেশি দই দিন
মিষ্টি বেশি লেবুর রস

রান্নার পাত্র: সঠিক পাত্র নির্বাচন

রান্নার জন্য সঠিক পাত্র নির্বাচন করাটা খুব জরুরি। কোন পাত্রে রান্না করছেন, তার ওপর খাবারের স্বাদ এবং গুণাগুণ অনেকখানি নির্ভর করে। যেমন, ননস্টিক পাত্রে রান্না করলে খাবার লেগে যাওয়ার ভয় থাকে না, আবার মাটির পাত্রে রান্না করলে খাবারের স্বাদ বেড়ে যায়।

বিভিন্ন পাত্রের ব্যবহার

  • ননস্টিক: ডিম ভাজা বা কম তেলে রান্নার জন্য ভালো।
  • মাটির পাত্র: মাংস বা ডাল রান্নার জন্য সেরা।
  • লোহার কড়াই: ভাজাভুজি বা সবজি রান্নার জন্য উপযুক্ত।

সঠিক পাত্র চেনার উপায়

ভালো পাত্র চেনার জন্য তার উপাদান এবং পুরুত্ব দেখতে হয়। পাতলা পাত্রে রান্না করলে খাবার পুড়ে যেতে পারে।

শেষ মুহূর্তের টিপস: পরিবেশন ও সাজসজ্জা

রান্না তো হল, এবার পরিবেশনের পালা। সুন্দর করে খাবার সাজিয়ে পরিবেশন করলে মনটা ভরে যায়। খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য শেষ মুহূর্তে কিছু জিনিস যোগ করা যায়, যেমন ধনে পাতা বা একটু বাটার।

সাজানোর কিছু টিপস

  • ধনে পাতা, পুদিনা পাতা দিয়ে সাজান।
  • একটু চাট মশলা ছড়িয়ে দিন।
  • লেবুর টুকরা দিয়ে পরিবেশন করুন।

পরিবেশনের সঠিক নিয়ম

গরম খাবার গরম এবং ঠান্ডা খাবার ঠান্ডা পরিবেশন করুন। এতে খাবারের স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে।

এই টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন পারফেক্ট রাঁধুনি। রান্নার ভুলগুলো নিয়ে চিন্তা না করে, সেগুলো থেকে শিখুন এবং নতুন কিছু তৈরি করতে থাকুন। শুভ কামনা!

শেষ কথা

আশা করি এই ব্লগ পোস্টটি আপনাদের রান্নার ভুলগুলো শুধরে নিতে সাহায্য করবে। রান্না একটি শিল্প, তাই ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আসল কথা। রান্নার প্রতি ভালোবাসা থাকলে, যে কেউ একদিন দারুণ রাঁধুনি হয়ে উঠতে পারে।

দরকারী কিছু তথ্য

১. রান্নার আগে সব উপকরণ হাতের কাছে গুছিয়ে নিন।

২. মশলার সঠিক ব্যবহার খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. উনানের আঁচের ওপর রান্নার স্বাদ অনেকখানি নির্ভর করে।

৪. নুন ও চিনির সঠিক ব্যবহারে খাবারের স্বাদ বজায় থাকে।

৫. সঠিক পাত্র নির্বাচন করে রান্নার গুণগত মান বাড়াতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

রান্নার সময় মনোযোগ দিন, সঠিক উপকরণ ব্যবহার করুন, এবং পরিমিত মশলা দিন। তাহলেই দেখবেন আপনার রান্না হয়ে উঠবে অসাধারণ!

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: রান্নায় লবণ বেশি হয়ে গেলে কী করব?

উ: রান্নায় লবণ বেশি হয়ে গেলে প্রথমে অল্প একটু চিনি দিন, এতে লবণের তীব্রতা কমবে। যদি তাতেও কাজ না হয়, তাহলে সামান্য আলু সেদ্ধ করে বা আটার ছোট লেচি তৈরি করে ঝোলের মধ্যে দিন। আলু বা আটা অতিরিক্ত লবণ শুষে নেবে। পরিবেশন করার আগে আলু বা আটার লেচি তুলে নিতে ভুলবেন না। আমি নিজে অনেকবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখেছি, বেশ কাজে দেয়!

প্র: মশলার সঠিক পরিমাণ কীভাবে বুঝব?

উ: মশলার সঠিক পরিমাণ বোঝার জন্য প্রথমে অল্প করে মশলা দিয়ে রান্না শুরু করুন। রান্নার সময় গন্ধ এবং স্বাদ পরীক্ষা করে দেখুন। যদি মনে হয় মশলা কম হয়েছে, তাহলে ধীরে ধীরে আরও একটু যোগ করুন। তাড়াহুড়ো করে বেশি মশলা দিয়ে দিলে কিন্তু স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে। আমার দাদী সবসময় বলতেন, “একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে মশলা দেওয়াই ভালো।”

প্র: রান্নার সময় পাত্রের তলায় লেগে গেলে কী করা উচিত?

উ: রান্নার সময় যদি দেখেন পাত্রের তলায় খাবার লেগে যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে আঁচ কমিয়ে দিন। এরপর অন্য একটি পাত্রে খাবারটি সাবধানে তুলে নিন, যাতে পোড়া অংশটুকু না মেশে। পোড়া গন্ধ খাবারের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। এরপর অল্প জল বা স্টক যোগ করে খুব কম আঁচে রান্না করুন, এবং ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। আমি একবার তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে প্রেসার কুকারে ডাল বসিয়ে দিয়েছিলাম, আর একদম পুড়ে গিয়েছিল!
সেদিন এই পদ্ধতিতেই ডালটা বাঁচিয়েছিলাম।