আজকাল বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ছে, তাই না? মাসের শেষে পকেটে টান ধরাটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে কি ভালো খাবার খাব না? একদম না!
হাতের কাছে থাকা সাধারণ কিছু সবজি আর অল্প কিছু উপকরণ দিয়ে দারুণ সব রাতের খাবার তৈরি করা যায়। আমি নিজে অনেকদিন ধরে চেষ্টা করে দেখছি, আর সত্যি বলতে কি, এখন বাইরের খাবারের থেকে ঘরে তৈরি খাবারই বেশি ভালো লাগে।ভাবছেন তো, কী কী করা যেতে পারে?
চিন্তা নেই, আমি আছি আপনার সাথে! আসুন, এই সহজলভ্য উপকরণগুলো দিয়ে কী কী চমৎকার রেসিপি বানানো যায়, তা জেনে নিই।নিশ্চিতভাবে জানাতে চলেছি!
ডিমের কারি: সহজলভ্য উপকরণে দারুণ খাবার

ডিমের কারি খুব সহজে বানানো যায় এবং এটি বেশ পুষ্টিকর একটি খাবার। বিশেষ করে যখন হাতে খুব বেশি সময় নেই, তখন ডিমের কারি হতে পারে একটি চমৎকার সমাধান। আমি প্রায়ই রাতে ডিমের কারি করি, কারণ এটা খুব দ্রুত হয়ে যায় এবং পরিবারের সবাই পছন্দ করে।
ডিমের কারি তৈরির সহজ উপায়
ডিমের কারি বানানোর জন্য প্রথমে ডিম সেদ্ধ করে নিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি করে ভেজে আদা-রসুন বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। টমেটো কুচি, হলুদ, মরিচ এবং ধনে গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে সামান্য জল দিয়ে কষাতে থাকুন। যখন মশলা থেকে তেল ছেড়ে আসবে, তখন সেদ্ধ করা ডিমগুলো দিয়ে দিন। অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রান্না করুন, যাতে ডিমের মধ্যে মশলা ঢোকে। সবশেষে গরম মশলা এবং ধনে পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।
ডিমের কারিকে আরও স্বাস্থ্যকর করার টিপস
ডিমের কারিকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে চাইলে, এতে পালং শাক বা অন্য কোনো সবজি যোগ করতে পারেন। এছাড়া, তেল ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে দিন এবং মশলার মধ্যে কাঁচা লঙ্কা ব্যবহার করুন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আমি মাঝে মাঝে ডিমের কারিতে একটু নারকেল দুধ দিই, এতে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
ডিমের কারির পুষ্টিগুণ
ডিমের কারি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস। ডিমের মধ্যে ভিটামিন ডি, বি১২ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের জন্য খুবই দরকারি। মশলার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য উপাদান শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তাই, ডিমের কারি শুধু সুস্বাদু নয়, স্বাস্থ্যকরও বটে।
আলু দিয়ে চটজলদি সবজি
আলু এমন একটি সবজি, যা প্রায় সবার ঘরেই থাকে। আর এটা দিয়ে খুব সহজেই অনেক রকমের পদ তৈরি করা যায়। আমার মা প্রায়ই আলু দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি তৈরি করেন, যা খেতে খুবই সুস্বাদু হয়।
আলু ভাজি: সহজ এবং উপাদেয়
আলু ভাজি একটি খুব সাধারণ খাবার, কিন্তু এটা খেতে দারুণ লাগে। আলু প্রথমে লম্বা করে কেটে নিন, তারপর পেঁয়াজ এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। সামান্য হলুদ এবং লবণ দিন, যাতে স্বাদ বাড়ে। আলু ভাজি গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করলে খুবই ভালো লাগে।
আলু এবং ফুলকপির সবজি
আলু এবং ফুলকপি মিশিয়ে একটি চমৎকার সবজি তৈরি করা যায়। প্রথমে আলু এবং ফুলকপি ছোট ছোট করে কেটে নিন। তারপর পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং টমেটো দিয়ে মশলা তৈরি করুন। আলু এবং ফুলকপি মশলার সাথে মিশিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। সামান্য জল দিয়ে ঢেকে দিন, যতক্ষণ না সবজি সেদ্ধ হয়।
আলুর দম: একটি মুখরোচক পদ
আলুর দম একটি খুবই জনপ্রিয় পদ। ছোট আলু সেদ্ধ করে নিন, তারপর সেগুলোর খোসা ছাড়িয়ে সামান্য তেলে ভেজে নিন। পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং টমেটো দিয়ে মশলা তৈরি করুন। আলুগুলো মশলার সাথে মিশিয়ে দই এবং গরম মশলা দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। আলুর দম পরোটা বা লুচির সাথে পরিবেশন করলে খুবই ভালো লাগে।
মসুর ডাল: পুষ্টিগুণে ভরপুর
মসুর ডাল একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং এটি সহজে রান্না করা যায়। এটি প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আমি প্রায়ই রাতে মসুর ডাল রান্না করি, কারণ এটা হজম করা সহজ এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়।
মসুর ডাল রান্নার সহজ পদ্ধতি
মসুর ডাল রান্না করার জন্য প্রথমে ডাল ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর একটি পাত্রে ডাল, জল, হলুদ এবং লবণ দিয়ে সেদ্ধ করতে দিন। যখন ডাল সেদ্ধ হয়ে নরম হয়ে আসবে, তখন পেঁয়াজ, রসুন এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে বাগার দিন। ডাল বাগার দেওয়ার সময় সামান্য জিরা এবং সরিষার তেল ব্যবহার করলে স্বাদ আরও বাড়বে।
ডালকে আরও স্বাস্থ্যকর করার উপায়
ডালকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে চাইলে, এতে পালং শাক, লাউ বা অন্য কোনো সবজি যোগ করতে পারেন। এছাড়া, ডাল রান্নার সময় ঘি ব্যবহার করলে স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ দুটোই বাড়বে। আমি মাঝে মাঝে ডালে একটু লেবুর রস দিই, এতে ডালের স্বাদ আরও ফ্রেশ লাগে।
মসুর ডালের উপকারিতা
মসুর ডাল প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা হজমক্ষমতাকে উন্নত করে। ডালে থাকা আয়রন রক্তাল্পতা কমাতে সাহায্য করে এবং অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাই, মসুর ডাল শুধু সুস্বাদু নয়, স্বাস্থ্যকরও বটে।
বাঁধাকপি দিয়ে স্বাস্থ্যকর রেসিপি

বাঁধাকপি একটি খুব সস্তা এবং পুষ্টিকর সবজি। এটি দিয়ে অনেক রকমের পদ তৈরি করা যায়। আমার দিদিমা প্রায়ই বাঁধাকপি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করেন, যা খেতে খুবই ভালো লাগে।
বাঁধাকপির ভাজি: সহজলভ্য উপকরণে তৈরি
বাঁধাকপির ভাজি একটি খুব সাধারণ খাবার, কিন্তু এটা খেতে দারুণ লাগে। বাঁধাকপি প্রথমে মিহি করে কেটে নিন, তারপর পেঁয়াজ এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। সামান্য হলুদ এবং লবণ দিন, যাতে স্বাদ বাড়ে। বাঁধাকপির ভাজি গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করলে খুবই ভালো লাগে।
বাঁধাকপির ঘন্ট: একটি মুখরোচক পদ
বাঁধাকপির ঘন্ট একটি খুবই জনপ্রিয় পদ। বাঁধাকপি ছোট ছোট করে কেটে নিন। এরপর পেঁয়াজ, আদা, রসুন এবং টমেটো দিয়ে মশলা তৈরি করুন। বাঁধাকপি মশলার সাথে মিশিয়ে মটরশুঁটি এবং আলু দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। সামান্য জল দিয়ে ঢেকে দিন, যতক্ষণ না সবজি সেদ্ধ হয়।
বাঁধাকপির উপকারিতা
বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজমক্ষমতাকে উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই, বাঁধাকপি শুধু সুস্বাদু নয়, স্বাস্থ্যকরও বটে।
পনির দিয়ে মুখরোচক খাবার
পনির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পুষ্টিকর খাবার। এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস এবং সহজে হজম হয়। আমি প্রায়ই রাতে পনিরের সবজি তৈরি করি, কারণ এটা খুব দ্রুত হয়ে যায় এবং পরিবারের সবাই পছন্দ করে।
পনিরের সবজি: সহজলভ্য উপকরণে তৈরি
পনিরের সবজি বানানোর জন্য প্রথমে পনির ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি করে ভেজে আদা-রসুন বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিন। টমেটো কুচি, হলুদ, মরিচ এবং ধনে গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে সামান্য জল দিয়ে কষাতে থাকুন। যখন মশলা থেকে তেল ছেড়ে আসবে, তখন পনিরের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রান্না করুন, যাতে পনিরের মধ্যে মশলা ঢোকে। সবশেষে গরম মশলা এবং ধনে পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।
পনির টিক্কা: একটি মুখরোচক পদ
পনির টিক্কা একটি খুবই জনপ্রিয় পদ। পনির ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন, তারপর দই, আদা-রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ এবং গরম মশলা দিয়ে মেখে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর পনিরের টুকরোগুলো শিকে গেঁথে তাওয়ায় বা ওভেনে সেঁকে নিন। পনির টিক্কা পুদিনার চাটনির সাথে পরিবেশন করলে খুবই ভালো লাগে।
পনিরের উপকারিতা
পনিরে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা শরীরের জন্য খুবই দরকারি। এটি হাড় এবং দাঁতকে মজবুত করে এবং শরীরের পেশি গঠনে সাহায্য করে। তাই, পনির শুধু সুস্বাদু নয়, স্বাস্থ্যকরও বটে।
| উপকরণ | উপকারিতা | রান্নার টিপস |
|---|---|---|
| ডিম | প্রোটিন, ভিটামিন ডি, বি১২ | ডিমের কারিতে পালং শাক যোগ করুন |
| আলু | কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন সি | আলু ভাজিতে পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা দিন |
| মসুর ডাল | প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন | ডালে পালং শাক বা লাউ যোগ করুন |
| বাঁধাকপি | ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার | বাঁধাকপির ঘন্টতে মটরশুঁটি দিন |
| পনির | প্রোটিন, ক্যালসিয়াম | পনির টিক্কায় পুদিনার চাটনি ব্যবহার করুন |
এই সাধারণ রেসিপিগুলো আপনাদের কেমন লাগলো, তা অবশ্যই জানাবেন। চেষ্টা করেছি সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে সুস্বাদু কিছু খাবার তৈরি করার পদ্ধতি শেয়ার করতে। রান্নার এই পথচলায় আপনাদের সহযোগিতা আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
শেষ কথা
আশা করি এই রেসিপিগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে এবং আপনারা এগুলো চেষ্টা করে দেখবেন। ডিম, আলু, ডাল, বাঁধাকপি এবং পনির – এই পাঁচটি সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে কত সহজে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়, তা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।
আপনারা যদি এই রেসিপিগুলো তৈরি করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আমাদের সাথে ছবি শেয়ার করুন। আপনাদের মতামত আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আরও নতুন এবং সহজ রেসিপি নিয়ে খুব শীঘ্রই ফিরে আসব। ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।
দরকারি কিছু তথ্য
১. ডিম সেদ্ধ করার সময় সামান্য লবণ দিন, এতে ডিম সহজে ফাটবে না।
২. আলু ভাজার সময় একটু চিনি দিন, এতে আলু তাড়াতাড়ি লাল হয়ে যাবে।
৩. ডাল রান্নার সময় এক চামচ ঘি দিন, এতে ডালের স্বাদ বাড়বে।
৪. বাঁধাকপি কাটার আগে কিছুক্ষণ গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন, এতে পোকা থাকলে বেরিয়ে যাবে।
৫. পনির নরম রাখতে হলে হালকা গরম জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ডিমের কারি: সহজে তৈরি এবং পুষ্টিকর।
আলু দিয়ে চটজলদি সবজি: আলু ভাজি, ফুলকপি দিয়ে সবজি, আলুর দম।
মসুর ডাল: প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ।
বাঁধাকপি: ভিটামিন ও মিনারেলস-এর উৎস।
পনির: প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামে ভরপুর।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: এই রেসিপিগুলো তৈরি করতে কি খুব বেশি সময় লাগে?
উ: একদমই না! আমি এমন রেসিপিগুলোই বেছে নিয়েছি যেগুলো খুব সহজে এবং কম সময়ে তৈরি করা যায়। ব্যস্ত জীবনেও যেন একটু ভালো খাবার খাওয়া যায়, সেটাই আমার লক্ষ্য। সাধারণত ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই রান্না হয়ে যায়।
প্র: এই রেসিপিগুলোর উপকরণগুলো কি সবসময় হাতের কাছে পাওয়া যায়?
উ: হ্যাঁ, অবশ্যই! আমি চেষ্টা করেছি এমন উপকরণ ব্যবহার করতে যা সাধারণত আমাদের রান্নাঘরে সবসময় থাকে। যেমন আলু, পিয়াজ, টমেটো, ডিম ইত্যাদি। আর যদি কোনো বিশেষ উপকরণ লাগেও, সেটা খুব সহজেই বাজারের যেকোনো দোকানে পেয়ে যাবেন।
প্র: আমি কি এই রেসিপিগুলোতে নিজের স্বাদ অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন করতে পারি?
উ: নিশ্চয়ই! রান্না তো একটা শিল্প, তাই না? আপনি আপনার স্বাদ ও পছন্দ অনুযায়ী উপকরণ যোগ বা বিয়োগ করতে পারেন। ধরুন, আপনি একটু ঝাল বেশি খেতে পছন্দ করেন, তাহলে কাঁচামরিচের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। অথবা, যদি কোনো সবজি অপছন্দ হয়, তাহলে সেটা বাদ দিয়ে অন্য কিছু যোগ করতে পারেন। নিজের মতো করে রান্না করে দেখুন, ভালো লাগবে।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과






