রান্নাঘরের উপকরণে মুখরোচক স্যুপ: ৭টি সহজ উপায় যা বদলে দেবে আপনার ধারণা!

webmaster

식재료 활용으로 만드는 수프 레시피 - A heartwarming scene of a Bengali family, including a mother, father, and a cheerful child (around 6...

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? শীতের এই মিষ্টি দুপুরে অথবা হঠাৎ বৃষ্টির সন্ধ্যায় এক বাটি গরম গরম স্যুপের কথা ভাবতেই জিভে জল এসে যায়, তাই না? আজকাল আমাদের সবারই জীবনটা কেমন যেন ছুটছে, সময়ের বড় অভাব। চটজলদি কিছু বানানো যায়, অথচ সেটা পুষ্টিকর আর সুস্বাদুও হবে – এমনটাই তো আমরা খুঁজি!

식재료 활용으로 만드는 수프 레시피 관련 이미지 1

আমি নিজেও কতোবার ভেবেছি, হাতের কাছে যা আছে, তা দিয়েই যদি দারুণ কিছু বানানো যেত! আর মজার ব্যাপার হলো, আমাদের রান্নাঘরে থাকা সাধারণ সবজি আর উপকরণ দিয়েই কিন্তু অবিশ্বাস্য রকমের সুস্বাদু স্যুপ তৈরি করা যায়। ভাবছেন কীভাবে?

আমার অভিজ্ঞতা বলে, একটু বুদ্ধি খাটালেই বাড়ির ভেতরের জিনিস দিয়ে এমন সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর স্যুপ তৈরি করা যায় যা বাজারের নামী দামী স্যুপকেও হার মানাবে। এতে যেমন আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, তেমনি বাজেটও সামলে নিতে পারবেন। তাহলে কি আপনারা জানতে চান, কীভাবে এই সহজ উপকরণ ব্যবহার করে দারুণ মজার স্যুপ বানানো যায়?

চলুন, তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে নিচের লেখায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই!

বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? শীতের এই মিষ্টি দুপুরে অথবা হঠাৎ বৃষ্টির সন্ধ্যায় এক বাটি গরম গরম স্যুপের কথা ভাবতেই জিভে জল এসে যায়, না? চলুন, তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে নিচের লেখায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিই!

বাজারের স্বাদ ঘরেই, নিজের হাতে তৈরি স্যুপের জাদু

সত্যি বলতে কি, রেস্তোরাঁর ঝকঝকে মেনু থেকে অর্ডার করা স্যুপের যে স্বাদ, তার পেছনে অনেক রহস্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু আমি আপনাকে জোর দিয়ে বলতে পারি, নিজের হাতে তৈরি স্যুপের মজাটাই আলাদা। শুধু স্বাদ নয়, এর পুষ্টিগুণ আর টাটকা ভাবের কোনো তুলনাই হয় না। যখন নিজের হাতে টাটকা সবজি বেছে, সেগুলোকে ধুয়ে কেটে রান্নার প্রস্তুতি নিই, তখন মনের মধ্যে এক ধরনের ভালোবাসা কাজ করে। ওই ভালোবাসাই স্যুপের স্বাদে একটা অন্য মাত্রা যোগ করে। বাইরের স্যুপে অনেক সময় অতিরিক্ত মসলা বা প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। অথচ বাড়িতে তৈরি স্যুপে আপনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন কী কী দিচ্ছেন, কতটা দিচ্ছেন। এতে করে পুরো পরিবার নিশ্চিন্তে স্বাস্থ্যকর খাবারটা উপভোগ করতে পারে। যেমন ধরুন, শীতের সবজি গাজর, বিনস আর ধনেপাতা দিয়ে তৈরি স্যুপ হালকা খিদের জন্য একদম পারফেক্ট হতে পারে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যেদিন বাড়িতে সবাই মিলে পছন্দের সবজি দিয়ে স্যুপ বানাই, সেদিন যেন খাওয়ার আনন্দটা আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য, যারা সবজি খেতে চায় না, তাদের কাছে স্যুপের মাধ্যমে সবজি পৌঁছে দেওয়াটা অনেক সহজ হয়। আমি দেখেছি, স্যুপ দেখতে সুন্দর আর সুস্বাদু হলে ছোটরাও আগ্রহ নিয়ে খায়। এতে তাদের শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন আর খনিজও পৌঁছায়। তাই শুধু স্বাদের কথা ভেবে নয়, সুস্থ থাকার জন্যেও নিজের হাতে তৈরি স্যুপের কোনো বিকল্প নেই। এই এক বাটি স্যুপ যেন শুধু খাবার নয়, এক বাটি উষ্ণতা আর ভালোবাসা।

নিজের হাতে টাটকা সবজির গুণাগুণ

বাজার থেকে তাজা সবজি কিনে এনে স্যুপ বানালে এর পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। গাজর, পালং শাক, টমেটো, ব্রোকলি – এই সব সবজিতে থাকা ভিটামিন, ফাইবার আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে। যেমন, পালং শাকে রয়েছে প্রচুর আয়রন, যা রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। টমেটোতে থাকা লাইকোপেন ত্বকের জন্য খুব উপকারী। ব্রোকলি ভিটামিন সি এবং কে-তে ভরপুর, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আর যখন আপনি এই সব টাটকা সবজি নিজের হাতে বেছে নেন, তখন এক ধরনের আত্মতৃপ্তি হয়। এই যে আমি নিজের পরিবারের জন্য সেরাটা দিচ্ছি, এই অনুভূতিটাই তো দারুণ! বিশেষ করে শীতকালে যখন বাজারে নানা ধরনের টাটকা সবজি পাওয়া যায়, তখন এই সুযোগটা কাজে লাগানো উচিত। আমি তো সবসময় চেষ্টা করি, মৌসুমি সবজি দিয়ে স্যুপ বানাতে। এতে যেমন স্বাদ ভালো হয়, তেমনি শরীরও সুস্থ থাকে।

স্বাস্থ্যকর এবং বাজেট-বান্ধব বিকল্প

রেস্তোরাঁর স্যুপের দামটা ভাবুন তো! আর তার তুলনায় বাড়িতে তৈরি স্যুপ কতটা সাশ্রয়ী। আমি নিজে হিসাব করে দেখেছি, বাজারের এক বাটি স্যুপের দামে আমি বাড়িতে পরিবারের সবার জন্য স্যুপ বানিয়ে ফেলতে পারি। এটা শুধু টাকার হিসাব নয়, সময়ের হিসাবও বটে। দোকানে গিয়ে অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করার থেকে বাড়িতে চটজলদি বানিয়ে ফেলাটা অনেক বেশি কাজের। তাছাড়া, নিজের ইচ্ছেমতো সবজি ব্যবহার করার স্বাধীনতা তো থাকছেই। এতে আপনার বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আর পুষ্টির সঙ্গে কোনো আপোসও হবে না। বিশেষ করে যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য কম ক্যালরির এই ধরনের স্যুপ দারুণ উপকারী। আমার অভিজ্ঞতা বলে, অল্প তেলে তৈরি সবজির স্যুপ পেট ভরা রাখে অনেকক্ষণ, ফলে বারে বারে খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে।

রান্নাঘরের কোণায় লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন: সবজির জাদু!

আমাদের রান্নাঘরের ফ্রিজে বা ঝুড়িতে অনেক সময় এমন কিছু সবজি পড়ে থাকে, যা হয়তো অন্য কোনো রেসিপির জন্য কিনেছিলাম, কিন্তু এখন অব্যবহৃত অবস্থায় আছে। কে জানতো, এই সাধারণ সবজিগুলোই হয়ে উঠতে পারে এক বাটি অসাধারণ স্যুপের প্রধান উপকরণ! এটাই তো সবজির জাদু, তাই না? আমি নিজেও অনেক সময় ফ্রিজ খুলে দেখেছি, দুটো গাজর, কয়েকটা বিনস, একটা টমেটো বা অল্প একটু বাঁধাকপি পড়ে আছে। প্রথমে ভাবতাম কী করি এগুলো দিয়ে, কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটালেই দেখি, এই সব টুকিটাকি সবজিগুলোই মিলেমিশে তৈরি করে ফেলে দারুণ একটা স্যুপ। এটাই তো গৃহিণীদের আসল বুদ্ধিমত্তা, যেখানে কোনো কিছু ফেলে না দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা যায়। এতে একদিকে যেমন অপচয় বন্ধ হয়, তেমনি নতুন স্বাদের একটা খাবারও তৈরি হয়। যেমন, শীতকালে গাজর, বিনস, মটরশুঁটি, ব্রোকলি, বাঁধাকপি, মাশরুম – এই সব সবজি দিয়ে সহজে পুষ্টিকর স্যুপ তৈরি করা যায়। এই স্যুপগুলো একদিকে যেমন শরীরকে উষ্ণতা দেয়, তেমনি হালকা খিদেকেও মেটায়। আমার মনে আছে, একবার হঠাৎ করে বাড়িতে অতিথি এলো, হাতে সময় কম আর বিশেষ কিছু ছিল না। তখন ফ্রিজ থেকে কিছু সবজি আর অল্প চিকেন বের করে ঝটপট একটা স্যুপ বানিয়েছিলাম। সবাই খেয়ে এতো প্রশংসা করলো যে আমি নিজেও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তাই বলি, রান্নাঘরে পড়ে থাকা সবজিগুলোকে কখনোই অবহেলা করবেন না।

সহজে খুঁজে পাওয়া যায় এমন সব উপকরণ

স্যুপ তৈরির জন্য আপনাকে যে খুব দামি বা দুর্লভ সবজি খুঁজতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আমাদের আশেপাশের বাজারেই যে সব সবজি সহজে পাওয়া যায়, সেগুলো দিয়েই দারুণ স্যুপ তৈরি করা সম্ভব। যেমন, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গাজর, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি, ক্যাপসিকাম – এই সব সাধারণ সবজিগুলোই স্যুপের জন্য যথেষ্ট। এমনকি, অল্প কিছু কর্নফ্লাওয়ার বা ডিম দিয়েও স্যুপকে আরও ঘন আর সুস্বাদু করা যায়। আমার রান্নাঘরে সবসময় এই ধরনের কিছু না কিছু থাকে, যা দিয়ে আমি সহজেই স্যুপ বানাতে পারি। শুধু একটু পরিকল্পনা আর সৃজনশীলতা থাকলেই হলো। যেমন, অনেক সময় মাংস রান্না করার পর যে স্টকটা থাকে, সেটা আমি ফেলে না দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিই। পরে সেটা দিয়ে ভেজিটেবল স্যুপ বানালে এর স্বাদ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এটাই তো স্মার্ট কুকিং, যেখানে অল্প পরিশ্রমে সেরাটা পাওয়া যায়।

মৌসুমি সবজির ব্যবহার: স্বাদে ও পুষ্টিতে সেরা

মৌসুমি সবজির ব্যবহার শুধু যে স্যুপের স্বাদ বাড়ায় তা নয়, এর পুষ্টিগুণও অনেক বেশি থাকে। শীতকালে যখন বাজারে টাটকা গাজর, বিনস, পালং শাক, মটরশুঁটি পাওয়া যায়, তখন সেগুলো দিয়ে স্যুপ বানানো মানে যেন প্রকৃতির আশীর্বাদ গ্রহণ করা। এই সময়কার সবজিগুলো যেমন সুস্বাদু হয়, তেমনি তাদের মধ্যে ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণও বেশি থাকে। আমি সবসময় চেষ্টা করি, এই মৌসুমি সবজিগুলোকে আমার দৈনন্দিন খাবারে যোগ করতে, আর স্যুপ তার মধ্যে অন্যতম। এটা শুধু আমার শরীরকে সুস্থ রাখে না, আমার মনকেও সতেজ রাখে। ভাবুন তো, ঠান্ডা সন্ধ্যায় এক বাটি গরম গরম পালং স্যুপ, যা কিনা মৌসুমি পালং শাক দিয়ে তৈরি! এর স্বাদ আর পুষ্টি দুটোই অতুলনীয়। এমনকি, বাড়িতে যদি ছোট শিশুরা থাকে, তাদের জন্যেও মৌসুমি সবজির স্যুপ খুব উপকারী। এটি তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

Advertisement

ঝটপট স্যুপ তৈরির কিছু দারুণ কৌশল!

আমাদের ব্যস্ত জীবনে সবকিছুর জন্য সময় খুঁজে বের করা কঠিন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ছেড়ে দেবো। বিশেষ করে স্যুপের মতো পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা কিন্তু মোটেই সময়সাপেক্ষ নয়, যদি আপনি কিছু কৌশল জানেন। আমি নিজে এমন অনেক দিন দেখেছি, যখন হাতে ১৫-২০ মিনিটের বেশি সময় নেই, অথচ হালকা কিছু খেতে ইচ্ছে করছে। তখন আমি এই ঝটপট কৌশলগুলো কাজে লাগাই আর দেখি দারুণ একটা স্যুপ তৈরি হয়ে গেছে। এটা আসলে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে রান্না করা। যেমন, কিছু সবজি আগে থেকে কেটে প্রস্তুত করে রাখা, বা কিছু বেসিক স্টক ফ্রিজে জমিয়ে রাখা। এতে করে যখন ইচ্ছে স্যুপ বানাতে বসা যায়, আর বেশি সময়ও লাগে না। বিশেষ করে শীতের সময় বা যখন ঠান্ডা লেগেছে, তখন দ্রুত এক বাটি গরম স্যুপের মতো আরাম আর কিছুতে নেই। তাই এই কৌশলগুলো জানা থাকলে আপনার রান্নাঘরটা হবে আপনারই হাতের মুঠোয়।

স্টক তৈরি: স্যুপের আসল প্রাণ

একটি ভালো স্যুপের মূল ভিত্তি হলো তার স্টক। চিকেন স্টক বা ভেজিটেবল স্টক আগে থেকে তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিলে, স্যুপ বানানোর সময় অনেক সহজ হয়ে যায়। আমি প্রতিবার মাংস বা সবজি রান্না করার সময় কিছুটা এক্সট্রা স্টক তৈরি করে আলাদা করে রেখে দিই। এটা স্যুপের স্বাদ অনেক বাড়িয়ে দেয়। যদি আপনার হাতে স্টক তৈরির সময় না থাকে, তবে বাজার থেকে ভালো মানের ভেজিটেবল কিউব বা চিকেন কিউব কিনেও ব্যবহার করতে পারেন। তবে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ হলো বাড়িতে তৈরি স্টক। এতে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন লবণের পরিমাণ এবং অন্য কোনো কৃত্রিম উপাদান যোগ হচ্ছে না। যেমন, আদা, রসুন, পেঁয়াজ আর আপনার পছন্দের কিছু সবজি সেদ্ধ করে যে পানিটা বের হয়, সেটাই কিন্তু দারুণ একটা ভেজিটেবল স্টক। এটা আপনার স্যুপকে একটা গভীর স্বাদ দেবে, যা ইনস্ট্যান্ট স্যুপ পাউডারে পাওয়া যায় না।

সবজি কাটার সহজ উপায়

স্যুপের জন্য সবজি কাটাটা অনেক সময় আলসেমি লাগতে পারে, তাই না? কিন্তু যদি আপনি কিছু সহজ কৌশল জানেন, তাহলে এটা মোটেও কঠিন হবে না। আমি সবসময় চেষ্টা করি, সবজিগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে কাটতে, এতে সেগুলো দ্রুত সেদ্ধ হয়। এছাড়াও, আপনি চাইলে ফুড প্রসেসর ব্যবহার করে সবজিগুলোকে দ্রুত চপ করে নিতে পারেন। এটা সময় বাঁচানোর এক দারুণ উপায়। যেমন, বাঁধাকপি, গাজর, বিনস, ক্যাপসিকাম একসাথে কেটে ছোট ছোট কিউব করে রেখে দিলে, যখন ইচ্ছে স্যুপ বানাতে পারেন। কিছু সবজি যেমন গাজর, টমেটো, পালং শাক সেদ্ধ করে ব্লেন্ড করে নিলে স্যুপের টেক্সচারটা খুব ক্রিমি হয়। আমার অভিজ্ঞতা বলে, আগে থেকে সবজিগুলো কেটে এয়ারটাইট কন্টেইনারে ফ্রিজে রেখে দিলে, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে স্যুপ বানানোটা খুবই সহজ হয়ে যায়।

স্যুপ শুধু খাবার নয়, এক বাটি ভালোবাসা!

আপনি যখন আপনার প্রিয়জনদের জন্য যত্ন করে এক বাটি স্যুপ তৈরি করেন, তখন সেটি কেবল একটি খাবার থাকে না, হয়ে ওঠে ভালোবাসার এক উষ্ণ প্রকাশ। আমার মনে আছে, আমার ছোটবেলায় মা যখন অসুস্থ হতেন, তখন তিনি সবসময় আমাকে এক বাটি গরম স্যুপ খেতে দিতেন। সেই স্যুপের স্বাদ আর অনুভূতি আজও আমার মনে গেঁথে আছে। মা-বাবার হাতের রান্নায় যে ভালোবাসা মেশানো থাকে, তা কোনো রেস্তোরাঁর খাবারেই পাওয়া যায় না। স্যুপ এমন একটি খাবার, যা যেকোনো পরিস্থিতিতে আমাদের আরাম দেয়, শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। বিশেষ করে যখন কেউ অসুস্থ থাকে, তখন স্যুপের চেয়ে ভালো পথ্য আর কিছু হতে পারে না। আমি নিজে অসুস্থ হলে হালকা মসলার ভেজিটেবল স্যুপ বা চিকেন স্যুপ খেয়ে খুব আরাম পাই। এর উষ্ণতা আর পুষ্টি শরীরকে দ্রুত সুস্থ করে তোলে। একটা স্যুপ তৈরি করার সময় প্রতিটি উপাদান বেছে নেওয়া, সেগুলোকে যত্নে তৈরি করা – এই পুরো প্রক্রিয়াটাই এক ধরনের ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসা যখন খাবারের মাধ্যমে অন্যদের কাছে পৌঁছায়, তখন তার মূল্য হয় অপরিসীম।

পরিবারের জন্য পুষ্টিকর যত্ন

পরিবারের সদস্যদের সুস্থ রাখার জন্য পুষ্টিকর খাবার দেওয়াটা আমাদের সবারই প্রধান লক্ষ্য থাকে। আর স্যুপ হচ্ছে এমন একটি খাবার, যা সব বয়সের মানুষের জন্য উপকারী। ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তি পর্যন্ত, সবাই স্যুপ অনায়াসে হজম করতে পারে। এতে যেমন ক্যালোরি কম থাকে, তেমনি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ আর ফাইবার থাকে। যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের জন্য রাতের খাবারে স্যুপ একটি চমৎকার বিকল্প। আমি দেখেছি, যখন আমি বাড়িতে পুষ্টিকর স্যুপ তৈরি করি, তখন সবাই খুব খুশি হয়। বিশেষ করে আমার স্বামী, যখন সারাদিন কাজের পর বাড়ি ফেরেন, তখন এক বাটি গরম স্যুপ তাকে অনেক সতেজ করে তোলে। এটা শুধু শরীরের জন্য ভালো নয়, মনের জন্যও খুব ভালো। এটা যেন দৈনন্দিন জীবনের এক টুকরো প্রশান্তি।

মন ভালো করার এক জাদুকরি উপায়

কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কেন ঠান্ডা বা বৃষ্টির দিনে এক বাটি গরম স্যুপ আমাদের মন ভালো করে দেয়? এর কারণ হলো, স্যুপের উষ্ণতা আর এর সহজপাচ্য গুণাগুণ আমাদের শরীর ও মনকে আরাম দেয়। এর মৃদু স্বাদ আর সুবাস যেন সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। আমার মনে আছে, একবার খুব বৃষ্টির দিনে মেজাজ খারাপ ছিল। তখন ঝটপট কিছু সবজি দিয়ে একটা টমেটো স্যুপ বানিয়েছিলাম। সেই স্যুপের এক চামচ মুখে দিতেই যেন সব মন খারাপ উধাও হয়ে গিয়েছিল! এটা আসলে স্যুপের একটা জাদুকরি প্রভাব। এটি আমাদের মনকে শান্ত করে, সতেজ করে তোলে। তাই শুধু শরীরের পুষ্টির জন্য নয়, মনের শান্তির জন্যও মাঝে মাঝে এক বাটি স্যুপ বানিয়ে ফেলুন। এতে আপনার মনও ভালো থাকবে, আর শরীরও চাঙ্গা থাকবে।

Advertisement

আপনার বাজেটে সেরা স্যুপ: খরচ কমানোর উপায়

আমরা সবাই চাই ভালো জিনিস খেতে, কিন্তু সব সময় বাজেটের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। স্যুপ তৈরির ক্ষেত্রে খরচ কমানোটা কিন্তু খুব কঠিন কিছু নয়, যদি আপনি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে কেনাকাটা করেন আর রান্নার সময় কিছু টিপস মেনে চলেন। আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলে, বাজারে যে সবজিগুলোর দাম কম থাকে, সেগুলো দিয়েও কিন্তু অসাধারণ সুস্বাদু স্যুপ তৈরি করা যায়। আপনাকে সবসময় দামি বিদেশি সবজি কিনতে হবে এমনটা নয়। বরং দেশীয় মৌসুমি সবজি ব্যবহার করে আপনি একই রকম বা তার চেয়েও ভালো ফল পেতে পারেন। এতে আপনার টাকাও বাঁচবে, আর শরীরও সুস্থ থাকবে। এটাই তো স্মার্ট কুকিং, যেখানে সীমিত উপকরণ দিয়ে সেরাটা বের করে আনা যায়।

বুদ্ধি করে কেনাকাটা

স্যুপের খরচ কমাতে চাইলে সবার আগে নজর দিন আপনার কেনাকাটার দিকে। যখন বাজারে যাবেন, তখন সেই সবজিগুলো কিনুন যেগুলো মৌসুমি এবং দাম কম। যেমন, শীতকালে গাজর, বিনস, টমেটো, বাঁধাকপি এগুলো তুলনামূলকভাবে সস্তা থাকে এবং এগুলো দিয়ে দারুণ স্যুপ তৈরি করা যায়। আমি সবসময় চেষ্টা করি, বেশি করে মৌসুমি সবজি কিনে রাখতে। এতে করে শুধু স্যুপ নয়, অন্যান্য রান্নার খরচও কমে আসে। এমনকি, সবজি কেনার সময় ছোট বা মাঝারি আকারের সবজি বেছে নেওয়াও খরচ কমানোর একটা ভালো উপায়। বড় সবজি অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু ছোট আকারের সবজিগুলো সহজে শেষ করা যায়।

বাড়তি সবজির সঠিক ব্যবহার

রান্না করার সময় অনেক সময় কিছু সবজির টুকরো বা অংশ রয়ে যায়। আমি সেগুলো ফেলে না দিয়ে একটা এয়ারটাইট বক্সে ফ্রিজে রেখে দিই। পরে যখন স্যুপ বানাই, তখন এই বাড়তি সবজিগুলো ব্যবহার করি। এতে কোনো অপচয় হয় না, আর স্যুপের স্বাদও বাড়ে। যেমন, ফুলকপির ডাঁটা, ব্রোকলির কাণ্ড, বা যেকোনো সবজির ছোট টুকরো – এগুলো স্যুপের জন্য দারুণ। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাতে সাহায্য করবে। আমার মনে আছে, একবার একটা ছোট্ট বাঁধাকপি আর কয়েকটা পেঁয়াজ কুচি দিয়ে একটা স্যুপ বানিয়েছিলাম, যা কিনা সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল তার স্বাদের জন্য! তাই কোনো সবজি ফেলে না দিয়ে সেগুলোকে স্যুপে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

식재료 활용으로 만드는 수프 레시피 관련 이미지 2

স্যুপের স্বাদ বাড়াতে ছোট্ট কিছু টিপস

আপনার তৈরি স্যুপের স্বাদ আরও বাড়াতে চান? কিছু ছোট ছোট টিপস আছে যা আপনার সাধারণ স্যুপকেও অসাধারণ করে তুলতে পারে। আমি নিজে এগুলো ব্যবহার করে দেখেছি, আর প্রতিবারই দারুণ ফল পেয়েছি। স্যুপের স্বাদ বাড়ানো মানে শুধু মসলা যোগ করা নয়, বরং প্রতিটি উপকরণের সঠিক ব্যবহার আর পরিবেশনের কৌশলও এর অন্তর্ভুক্ত। এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনার স্যুপ হবে রেস্তোরাঁর স্যুপের চেয়েও বেশি সুস্বাদু এবং ঘরোয়া ছোঁয়ায় ভরা।

মসলার সঠিক ব্যবহার

স্যুপে মসলার ব্যবহার খুব সূক্ষ্মভাবে করতে হয়। অতিরিক্ত মসলা স্যুপের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট করে দিতে পারে। আমি সাধারণত সামান্য গোলমরিচ, আদা-রসুন বাটা, আর সামান্য ধনেপাতা কুচি ব্যবহার করি। অনেক সময় এক চিমটি অরিগ্যানো বা থাইমও যোগ করি, যা স্যুপকে একটা অন্যরকম ফ্লেভার দেয়। আপনি যদি একটু ঝাল পছন্দ করেন, তাহলে কাঁচা মরিচ কুচি বা চিলি ফ্লেক্স দিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, মসলা যেন কোনোভাবেই অন্যান্য উপকরণের স্বাদকে ছাপিয়ে না যায়। বরং এটা যেন সবজির প্রাকৃতিক স্বাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আমি সবসময় মসলা যোগ করার পর একটু স্যুপ চেখে দেখি, প্রয়োজনে অল্প অল্প করে যোগ করি।

পরিবেশনের আগে চূড়ান্ত স্পর্শ

স্যুপ পরিবেশনের আগে কিছু ছোট কাজ এর সৌন্দর্য আর স্বাদ দুটোই বাড়িয়ে দেয়। যেমন, স্যুপ পরিবেশনের আগে অল্প একটু লেবুর রস মিশিয়ে দিলে এর স্বাদ আরও চাঙ্গা হয়। এছাড়া, উপরে কিছু টাটকা ধনেপাতা কুচি, স্প্রিং অনিয়ন বা সামান্য ক্রিম ছড়িয়ে দিলে দেখতেও দারুণ লাগে, আর খেতেও ভালো লাগে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, গরম গরম স্যুপ একটি সুন্দর বাটিতে পরিবেশন করলে তার আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। এমনকি, স্যুপের সঙ্গে টোস্ট করা পাউরুটি বা গার্লিক ব্রেড দিলে তা একটা কমপ্লিট মিল হয়ে যায়। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই আপনার স্যুপকে সবার কাছে আরও বেশি প্রিয় করে তুলবে।

Advertisement

বিভিন্ন ধরনের স্যুপ: আপনার জন্য সেরা কোনটি?

স্যুপের জগৎটা অনেক বিশাল। শুধুমাত্র সবজি দিয়েই নয়, চিকেন বা মাশরুম দিয়েও তৈরি করা যায় অসাধারণ স্যুপ। আপনার রুচি আর প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি যেকোনো স্যুপ বেছে নিতে পারেন। আমি নিজে বিভিন্ন ধরনের স্যুপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসি, আর প্রতিবারই নতুন কিছু না কিছু আবিষ্কার করি। চলুন, দেখে নিই কিছু জনপ্রিয় স্যুপের প্রকারভেদ যা আপনি বাড়িতে সহজেই তৈরি করতে পারবেন।

চিকেন স্যুপ: পুষ্টি আর স্বাদের অসাধারণ মেলবন্ধন

ঠান্ডা লেগেছে বা শরীর দুর্বল লাগছে? এক বাটি গরম গরম চিকেন স্যুপের জুড়ি মেলা ভার। চিকেন স্যুপ শুধু মুখরোচক নয়, এটি প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর। বাড়িতে চিকেন স্টক তৈরি করে তাতে ছোট ছোট করে কাটা চিকেনের টুকরো, গাজর, বিনস, আর সামান্য গোলমরিচ মিশিয়ে তৈরি করা যায় দারুণ চিকেন স্যুপ। আমি দেখেছি, যখন আমার বাচ্চারা অসুস্থ থাকে, তখন তারা অন্য কিছু খেতে না চাইলেও চিকেন স্যুপ খুব সহজে খেয়ে নেয়। এতে তাদের শরীর দ্রুত চাঙ্গা হয়। এমনকি, যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের জন্য রাতের খাবারে চিকেন স্যুপ একটি দারুণ বিকল্প। আমি সবসময় অল্প আদা আর রসুন যোগ করি চিকেন স্যুপে, যা এর স্বাদ আর ঔষধি গুণ দুটোই বাড়িয়ে দেয়।

মাশরুম স্যুপ: অনন্য স্বাদের অভিজ্ঞতা

মাশরুমের প্রতি যদি আপনার বিশেষ ভালোবাসা থাকে, তাহলে মাশরুম স্যুপ আপনার মন জয় করবেই। মাশরুম স্যুপের একটা আলাদা মাটির গন্ধ আর ক্রিমি টেক্সচার থাকে, যা খেতে অসাধারণ লাগে। মাশরুম ভিটামিন ডি-এর একটি ভালো উৎস, যা শীতকালে আমাদের শরীরের জন্য খুবই দরকারি। মাশরুমকে হালকা করে ভেজে তাতে সামান্য ময়দা, দুধ আর স্টক মিশিয়ে তৈরি করা যায় চমৎকার মাশরুম স্যুপ। আমি দেখেছি, এই স্যুপটা আমার বন্ধুদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়, যখনই আমি বাড়িতে পার্টির আয়োজন করি। এটা একটু ভিন্ন ধরনের স্বাদ দেয়, আর দেখতেও খুব আকর্ষণীয় হয়। যারা নতুন কিছু চেষ্টা করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য মাশরুম স্যুপ একটি দারুণ বিকল্প হতে পারে।

স্যুপের ধরন প্রধান উপকরণ বিশেষ গুণাগুণ
ভেজিটেবল স্যুপ গাজর, বিনস, টমেটো, পালং, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি ভিটামিন, ফাইবার সমৃদ্ধ, হজমে সহায়ক, কম ক্যালরি
চিকেন স্যুপ চিকেন, গাজর, আদা, রসুন, পেঁয়াজ প্রোটিন সমৃদ্ধ, অসুস্থতার সময় শক্তি যোগায়, শরীর উষ্ণ রাখে
মাশরুম স্যুপ মাশরুম, মাখন, দুধ, গোলমরিচ ভিটামিন ডি-এর উৎস, অনন্য স্বাদ ও ক্রিমি টেক্সচার

দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য স্যুপ: আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের প্রতিদিনের খাবারে স্যুপের মতো একটি স্বাস্থ্যকর খাবার রাখাটা খুব জরুরি। এটি কেবল হালকা খাবার হিসেবেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি নিজেও অনেক বছর ধরে আমার খাদ্যাভ্যাসে স্যুপকে অন্তর্ভুক্ত করেছি, আর এর সুফল আমি হাতে নাতে পেয়েছি। এটি আমার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করেছে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে, এবং সবচেয়ে বড় কথা, আমাকে সতেজ ও কর্মঠ থাকতে সাহায্য করেছে। এই যে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া, এটা আসলে নিজের প্রতি ভালোবাসারই একটা অংশ। আমি দেখেছি, যখন শরীর সুস্থ থাকে, তখন মনও ফুরফুরে থাকে, আর সব কাজই ভালোভাবে করা যায়।

হজমে সহায়তা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ

স্যুপে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ রাখে। এর ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আমি দেখেছি, যখন আমি নিয়মিত স্যুপ খাই, তখন আমার পেট অনেক হালকা লাগে এবং হজমের কোনো সমস্যা হয় না। এছাড়া, স্যুপে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় এটি ওজন কমানোর জন্য খুবই কার্যকর। স্যুপ পেট ভরা রাখে অনেকক্ষণ, ফলে বারে বারে খিদে পায় না এবং অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়। এটি আমার ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেক সাহায্য করেছে। যারা ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করেছেন, তাদের জন্য রাতের খাবারে এক বাটি স্যুপ হতে পারে সেরা সঙ্গী।

শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখা

স্যুপে থাকা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে ঠান্ডা বা ফ্লু-এর সময় স্যুপ একটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এর উষ্ণতা গলা ব্যথা বা সর্দি কমাতে সাহায্য করে। আমি দেখেছি, যখন আমি নিয়মিত স্যুপ খাই, তখন আমার ত্বকও অনেক উজ্জ্বল থাকে এবং চুলও সুস্থ থাকে। এটা আসলে শরীরের ভেতর থেকে পুষ্টি পাওয়ার একটা দারুণ উপায়। তাই শুধু খাবারের স্বাদ বা মজার জন্য নয়, বরং নিজের শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ আর সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিনের খাবারে স্যুপ যোগ করার কথা ভাবুন।

글을মাচি며

বন্ধুরা, এই ছিল আমার নিজের হাতে তৈরি স্যুপ নিয়ে কিছু কথা আর অভিজ্ঞতা। আশা করি, আমার এই গল্পগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে। সত্যি বলতে কি, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই কিন্তু বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিজের হাতে টাটকা সবজি দিয়ে এক বাটি স্যুপ বানানোটা শুধু রান্নার কাজ নয়, এটা এক ধরনের যত্ন, এক টুকরো ভালোবাসা। এটা আপনার শরীরকে সুস্থ রাখে, আপনার বাজেট সামলায়, আর সবচেয়ে বড় কথা, পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটায়। শীতের সন্ধ্যায় বা যেকোনো হালকা খিদের মুহূর্তে এই সহজ আর পুষ্টিকর স্যুপ হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। তাই আর দেরি না করে, আজই আপনার রান্নাঘরে থাকা উপকরণগুলো দিয়ে বানিয়ে ফেলুন এক বাটি গরম গরম স্যুপ। দেখবেন, আপনার মন আর শরীর দুটোই আনন্দে ভরে উঠবে!

알아두면 쓸모 있는 정보

1. সবসময় মৌসুমি সবজি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে যেমন স্বাদ ভালো হবে, তেমনি পুষ্টিগুণও বেশি থাকবে এবং খরচও কম পড়বে।
2. চিকেন বা ভেজিটেবল স্টক আগে থেকে তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিলে স্যুপ তৈরির সময় অনেক সহজ হয়ে যায়, আর এর স্বাদও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
3. সবজিগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে কাটলে সেগুলো দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং স্যুপের স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়, যা সময়ও বাঁচায়।
4. স্যুপে অতিরিক্ত মসলা ব্যবহার না করে সামান্য গোলমরিচ, আদা-রসুন আর ধনেপাতা কুচি ব্যবহার করুন, এতে প্রাকৃতিক স্বাদ বজায় থাকবে।
5. স্যুপ পরিবেশনের আগে সামান্য লেবুর রস আর টাটকা ধনেপাতা বা স্প্রিং অনিয়ন ছড়িয়ে দিলে এর স্বাদ ও সৌন্দর্য দুটোই বাড়ে।

Advertisement

중요 사항 정리

আমার এতদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটা বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝেছি, আর সেটা হলো – স্যুপ শুধু একটি খাবার নয়, এটি সুস্থ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ঘরে তৈরি স্যুপের কোনো বিকল্প নেই। এটি আপনার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ ও কর্মঠ রাখে। যখন আপনি নিজের হাতে যত্নের সাথে স্যুপ তৈরি করেন, তখন সেই খাবারটা শুধুমাত্র শরীরের পুষ্টি যোগায় না, বরং মনকেও শান্তি দেয়। এর উষ্ণতা আর সহজপাচ্য গুণাগুণ যেকোনো ক্লান্তি বা অসুস্থতার সময় দারুণ আরাম দেয়। এছাড়া, বাজারের চড়া দামের স্যুপের পেছনে না ছুটে বাড়িতেই কম খরচে, হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে সুস্বাদু আর স্বাস্থ্যকর স্যুপ তৈরি করা যায়। এতে আপনার বাজেটও নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আর পরিবারের সবাই নিশ্চিন্তে পুষ্টিকর খাবার উপভোগ করতে পারবে। তাই, আসুন আমরা সবাই সুস্থ থাকার এই সহজ আর সুস্বাদু পথটি বেছে নিই, আর প্রতিদিনের খাবারে এক বাটি ভালোবাসার স্যুপ যোগ করি। এটা আপনার নিজের প্রতি যত্ন, আর ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: আমাদের রান্নাঘরে থাকা সাধারণ সবজি আর উপকরণ দিয়েই কি বাজারের দামী স্যুপের মতো স্বাদ আনা সম্ভব? আমি অনেক চেষ্টা করেও তেমন মজাদার করতে পারি না, আমার কি ভুল হয়?

উ: আরে একদম সম্ভব! আমার তো মনে হয়, বাজারের কেনা স্যুপের থেকে বাড়ির তৈরি স্যুপের স্বাদ অনেক বেশি গভীর আর স্বাস্থ্যকর হয়। আসলে কী জানেন তো, আমরা ভাবি বুঝি অনেক জটিল কিছু করতে হবে, কিন্তু আসল জাদুটা লুকিয়ে থাকে ছোট ছোট কিছু কৌশলে। প্রথমত, সবজির টাটকা হওয়াটা খুব জরুরি। একদম তাজা সবজি থেকে যে স্বাদ আর পুষ্টি আসে, সেটা হিমায়িত সবজিতে পাওয়া কঠিন। এরপর আসে ভাজার পালা। সামান্য অলিভ অয়েল বা বাটার দিয়ে আদা, রসুন আর পেঁয়াজ হালকা সোনালী করে ভেজে নিন। এই ভাজা থেকেই একটা দারুণ সুগন্ধ আসবে যা স্যুপের ভিত্তি তৈরি করে। আমি নিজে দেখেছি, এই ছোট্ট ধাপটা অনেকেই এড়িয়ে যান, আর তাতেই স্বাদের একটা বড় পার্থক্য হয়ে যায়। এরপর আপনার পছন্দের সবজিগুলো ছোট ছোট টুকরো করে দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভেজে নিন। সবজিগুলো সামান্য ভাজলে তাদের প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদটা বেরিয়ে আসে। আর হ্যাঁ, একটুখানি গোলমরিচ গুঁড়ো আর সামান্য লেবুর রস – এই দুটো জিনিসই স্যুপের স্বাদকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। শেষের দিকে ধনে পাতা কুচি বা স্প্রিং অনিয়ন ছড়িয়ে দিলে দেখতেও ভালো লাগে আর সুগন্ধও দারুণ হয়। বিশ্বাস করুন, একবার এভাবে বানিয়ে দেখুন, বাজারের স্যুপের কথা ভুলেই যাবেন!

প্র: বাড়িতে তৈরি স্যুপ কি সত্যি সত্যিই স্বাস্থ্যকর হয়, নাকি তাতেও তেল-মশলা দিয়ে ক্যালোরি বেড়ে যায়? বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চাইছেন বা বাচ্চাদের জন্য বানাচ্ছেন, তাদের জন্য কেমন হবে?

উ: এই প্রশ্নটা আমার কাছেও বহুবার এসেছে! আর আমি সবসময় বলি, বাড়ির তৈরি স্যুপ বাজারের যেকোনো স্যুপের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণটা খুব সহজ – সবকিছুই আপনার চোখের সামনে তৈরি হচ্ছে!
আপনিই ঠিক করছেন কী কী উপকরণ ব্যবহার করবেন। তেল-মশলার কথা যদি বলি, তাহলে আপনি ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আমি নিজে যখন ওজন কমানোর জন্য স্যুপ বানাই, তখন খুবই কম তেল ব্যবহার করি বা একদমই করি না। চিকেন বা ভেজিটেবল স্টক দিয়ে সবজি সেদ্ধ করে নিই। এতে স্যুপের ঘনত্ব ঠিক থাকে, কিন্তু ক্যালোরি অনেক কমে যায়। বাচ্চাদের জন্য স্যুপ বানালে আমি সবজিগুলো খুব নরম করে সেদ্ধ করি আর সামান্য নুন, গোলমরিচ ছাড়া অন্য কোনো মশলা দিই না। আমার অভিজ্ঞতা বলে, বাচ্চারা সবজির প্রাকৃতিক স্বাদটা উপভোগ করতে পারে যদি সেটা খুব মশলাদার না হয়। তাছাড়া, স্যুপে আপনি আপনার পছন্দমতো প্রোটিন যেমন ডিমের সাদা অংশ, সেদ্ধ চিকেনের ছোট টুকরা বা ডাল যোগ করতে পারেন। এতে স্যুপটা আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে। বাড়িতে বানালে আপনি কোনো কৃত্রিম ফ্লেভার বা প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করছেন না, যা আপনার এবং আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

প্র: ব্যস্ত জীবনে চটজলদি স্যুপ বানানোর কোনো সহজ উপায় আছে কি? অনেক সময় তাড়াহুড়োয় রান্না করার সময় পাই না, কিন্তু স্বাস্থ্যকর কিছু খেতেও মন চায়।

উ: আরে ব্যস্ততা তো আমাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী! আমিও বহুবার এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, চটজলদি স্যুপ বানানোর কিছু দারুণ ট্রিকস আছে যা আপনার জীবনকে অনেকটাই সহজ করে দেবে। প্রথমত, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বা যখন একটু সময় পান, তখন কিছু সবজি (যেমন গাজর, বিনস, ক্যাপসিকাম) কেটে ছোট ছোট এয়ারটাইট বক্সে ফ্রিজে রেখে দিন। এতে সপ্তাহের মাঝে যখন স্যুপ বানাতে মন চাইবে, তখন শুধু সেই সবজিগুলো বের করে ঝটপট ব্যবহার করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, চিকেন স্টক বা ভেজিটেবল স্টক আগে থেকে বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। আমি নিজে করি কী, একবারে অনেকটা স্টক বানিয়ে কিউব করে ফ্রিজে জমিয়ে রাখি। যখন দরকার হয়, একটা কিউব বের করে ব্যবহার করি। এতে সময় বাঁচে আর স্যুপের স্বাদও দারুণ হয়। তৃতীয়ত, প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন!
সবজি আর স্টক দিয়ে প্রেসার কুকারে মাত্র কয়েক মিনিটেই স্যুপ তৈরি হয়ে যায়। আর যদি আরও দ্রুত চান, তাহলে শুধু জল ফুটিয়ে আপনার পছন্দের ইনস্ট্যান্ট নুডুলস স্যুপের সাথে কিছু তাজা সবজি আর একটা ডিম ফেটিয়ে দিয়ে দিন। এটা স্বাস্থ্যকর না হলেও, একদম জরুরি অবস্থায় ক্ষুধা মেটাতে দারুণ কাজে লাগে। আমার মনে হয়, একটু বুদ্ধি খাটালে ব্যস্ত দিনেও সুস্বাদু আর স্বাস্থ্যকর স্যুপ তৈরি করা কোনো ব্যাপারই না!

📚 তথ্যসূত্র

Advertisement